কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
দেশীয় সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও প্রগতিশীল চেতনার বিকাশে জাতীয় গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার জোরালো আহ্বান উঠেছে কুষ্টিয়ায়। “ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ”, কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রাণবন্ত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সমাবেশ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ আয়োজনটি কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজন, তরুণ সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতিতে এক মিলনমেলায় রূপ নেয়। সূচনালগ্নেই দেশাত্মবোধক গান ও আবৃত্তির আবেগঘন পরিবেশনা পুরো অনুষ্ঠানে এনে দেয় এক অনন্য উচ্ছ্বাস ও প্রেরণা।
অনুষ্ঠানে ওস্তাদ মোতালেব বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে নয় সদস্যবিশিষ্ট সদর থানা কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি উদযাপন কমিটিও ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি গীতিকার আজব আলী। বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কণ্ঠশিল্পী মো. আব্দুর রশিদ, সদস্য কণ্ঠশিল্পী মোঃ ইউসুফ, ওস্তাদ মোতালেব হোসেন, নেকবার হোসেন, নাজিমুল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও অভিনেতা পলান বিশ্বাস।
আলোচনা পর্বে বক্তারা বর্তমান সমাজে অপসংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বিশ্বায়নের প্রভাবে বহিরাগত সংস্কৃতির আগ্রাসনে আমাদের হাজার বছরের লালিত ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ হুমকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সুসংগঠিত সাংস্কৃতিক আন্দোলন, সুস্থ বিনোদনচর্চা এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।
বক্তারা আরও বলেন, একটি জাতির আত্মপরিচয় তার সংস্কৃতির মধ্যেই নিহিত। তাই গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণে সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই। কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলার এখনই উপযুক্ত সময় বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
সভায় উপস্থিত তরুণ সংস্কৃতিকর্মীরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানান, তারা অপসংস্কৃতি বর্জন করে দেশীয় ঐতিহ্য, প্রগতিশীল চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সম্পৃক্ত করবেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে গ্রাম থেকে শহর—সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, ভবিষ্যতে কুষ্টিয়া জেলায় নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, নাট্যচর্চা, সংগীত ও আবৃত্তি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। স্কুল-কলেজভিত্তিক সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বাড়িয়ে তরুণদের সৃজনশীল বিকাশেও কার্যকর ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সংগীত, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। করতালিতে মুখরিত এই আয়োজন যেন নতুন আশার বার্তা পৌঁছে দেয়—সুস্থ, মানবিক ও প্রগতিশীল সংস্কৃতির বিকাশে সম্মিলিত পথচলার।
এই আয়োজন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি এক জাগরণের অঙ্গীকার—যেখানে সংস্কৃতির শক্তিতেই গড়ে উঠতে পারে একটি আলোকিত, মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ।
এ জাতীয় আরো খবর..