কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
দেশের কৃষিখাতকে আরও সমৃদ্ধ, টেকসই ও আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নিতে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের কোনো বিকল্প নেই—এমন বিশ্বাস থেকেই “কৃষিই সমৃদ্ধি” প্রতিপাদ্যে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো পাট ও আউশের আবাদ পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা।
সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল এলাকায় আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ক্রপস্ উইং) পরিচালক ড. সালমা লাইজু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কৃষিবিদ রুপালী খাতুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার উপপরিচালক (কৃষি সম্প্রসারণ) ড. মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়া।
সভাটি পরিণত হয় কৃষক-কৃষাণী ও কৃষি কর্মকর্তাদের এক আন্তরিক মিলনমেলায়। স্থানীয় কৃষকরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, আর কৃষি কর্মকর্তারা দেন প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা। পাট ও আউশ ধানের বর্তমান আবাদ পরিস্থিতি, উৎপাদন বৃদ্ধির আধুনিক কৌশল, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে হয় বিস্তারিত আলোচনা।
প্রধান অতিথি ড. সালমা লাইজু তার বক্তব্যে বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি কৃষি। পাট ও আউশ চাষে আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ এবং সময়োপযোগী পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। তিনি আশ্বস্ত করেন, সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এজন্য প্রয়োজন কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ এবং সঠিক পরিচর্যার নিশ্চয়তা।
বিশেষ অতিথি কৃষিবিদ রুপালী খাতুন বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বাড়ানো গেলে উৎপাদনও বাড়বে। বিশেষ করে পাট ও আউশ চাষে সঠিক সময়ে বীজ বপন, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতি ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও মতামতই কৃষি উন্নয়নের মূল ভিত্তি। এ ধরনের মতবিনিময় সভা মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে এবং সমাধানের পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
সভায় অংশগ্রহণকারী কৃষকরা পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সারের সহজলভ্যতা এবং আউশ ধানের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানান। তাদের প্রত্যাশা—সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার হলে কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
আয়োজক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া সদর জানায়, কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও পরামর্শ বিনিময়ের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, প্রাণবন্ত এই মতবিনিময় সভা কৃষকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছে। পাট ও আউশ চাষে আধুনিকতা ও টেকসই উন্নয়নের যে বার্তা এখানে উঠে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে কুষ্টিয়ার কৃষিখাতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর..