কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা জুড়ে এখন যেন সবুজের রাজ্য। বিস্তীর্ণ মাঠে বাতাসের দোলায় দুলছে বোরো ধানের শীষ, প্রকৃতি যেন এঁকেছে জীবন্ত এক শস্যচিত্র। কৃষকের চোখে-মুখে আনন্দ, মনে উচ্ছ্বাস—আর কিছুদিন পরেই এই সবুজ প্রান্তর রূপ নেবে সোনালি ফসলে, উঠবে ঘরে বছরের পরিশ্রমের সেরা অর্জন।
চলতি বোরো মৌসুমে মিরপুর উপজেলায় ৯ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ৯ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার প্রায় কাছাকাছি এ আবাদ ঘিরে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো সেচ সুবিধা, পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় পরামর্শ—সব মিলিয়ে এবার ফলনের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী সবাই।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ধানের শীষ এখন পরিপুষ্ট, কোথাও কোথাও ধান পাকতেও শুরু করেছে। সবুজের বুক চিরে ছড়িয়ে পড়ছে সোনালি আভা। মাঠজুড়ে যেন আশার উৎসব। কৃষকদের ভাষায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে এবার ফলন হবে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ধানের অবস্থা অনেক ভালো। রোগবালাই কম, সেচ ব্যবস্থাও ছিল সন্তোষজনক। উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকায় কৃষকরা লাভের মুখ দেখার আশায় বুক বেঁধেছেন। তাদের বিশ্বাস, ভালো ফলন শুধু পরিবারের স্বচ্ছলতা আনবে না, বদলে দেবে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্রও।
কৃষি বিভাগ বলছে, উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলেই বোরো উৎপাদনে ধারাবাহিক সাফল্য আসছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ, যা ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মিরপুরের শস্যভরা মাঠে এখন শুধু ধানের সুবাস আর সম্ভাবনার গল্প। কৃষকের ঘামে, প্রকৃতির আশীর্বাদে আর স্বপ্নের রঙে রচিত হচ্ছে নতুন এক সাফল্যের কাব্য। এখন অপেক্ষা শুধু সোনালি ধান ঘরে তোলার—যে ফসল কৃষকের মুখে ফুটাবে স্বস্তির হাসি, আর দেশের খাদ্যভাণ্ডার করবে আরও সমৃদ্ধ।
এ জাতীয় আরো খবর..